নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
সরকার কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগ চট্টগ্রামে পুনরায় সংগঠিত হয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গণ-আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কারাবন্দী নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে ঝটিকা মিছিল, পোস্টার সাঁটানো ও বিভিন্ন ইস্যুতে মাঠ দখলের চেষ্টা করছে সংগঠনটি।
প্রকাশ্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা দলের পক্ষে স্ট্যান্টবাজির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস-তেল ও বিদ্যুৎ সংকটসহ নাগরিক দুর্ভোগের ইস্যুগুলোকে পুঁজি করে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে যুবলীগের একাধিক গ্রুপ।
নেপথ্যেনওফেল ও নাছিরঅনুসারীরা
গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী একাধিক উপ-গ্রুপ এই তৎপরতার নেপথ্যে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
আ জ ম নাছিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত যুবলীগের গ্রুপটির সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন যুবলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আত্মগোপনে থাকা নাছিরের নির্দেশনায় লিমন মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। গত বছর যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী'কে কেন্দ্র করে আগ্রাবাদ এলাকায় তার নেতৃত্বে মিছিল হতে দেখা যায়। এছাড়া প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার ঝটিকা মিছিল ও গোপন বৈঠকের নেপথ্যে লিমনের সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে।
উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রামে ছাত্র হত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও এখনো তাকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অন্যদিকে, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে মাঠে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে নূর মোস্তফা টিনু, আসিফ মাহমুদ ও গোলাম সামদানি জনিসহ বেশ কয়েকজন নেতা। টিনুর নেতৃত্বে একটি অংশ দলীয় অনুগতদের সংগঠিত করে মাঠে নামার চেষ্টা চালাচ্ছে জানা গেছে। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে জনির ছবি সংবলিত ব্যানার নিয়ে ঝটিকা মিছিল করতে দেখা গেছে কতিপয় যুবককে। যাদের বেশীরভাগই রয়েছে প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে।
এছাড়াও, দেশের বাইরে অবস্থান করে যুবলীগকে সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন মহানগর যুবলীগের সহ-সভাপতি ওয়াসিম উদ্দীন চৌধুরী। তিনিও নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
জামিনে মুক্তি ও পুনরায় সক্রিয়তা: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র মতে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে অনেকেই পুনরায় একই ধরনের কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছেন, যা নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এনামুল হক আরমান
ফোন : +8801609378100, ই-মেইল: kolom24news@gmail.com