মো. নূর নবী শেখ
গর্ভধারণের শেষ পর্যায় বা ‘থার্ড ট্রাইমেস্টার’-এ এসেও নিজের নিয়মিত শারীরিক কসরত ও শরীরচর্চায় বিন্দুমাত্র ছাড় দেননি জনপ্রিয় দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু। গর্ভধারণের ২৮ সপ্তাহ পেরিয়ে সন্তান প্রসবের একদম দ্বারে দাঁড়িয়েও সপ্তাহের টানা ৬ দিন জিমে গিয়ে ওয়ার্কআউট করছেন এই অভিনেত্রী। তবে শরীরের এই বিশেষ অবস্থার কথা মাথায় রেখে নিজের দৈনন্দিন ফিটনেস রুটিনে প্রয়োজনীয় সব পরিবর্তন এনেছেন তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের নিবিড় শরীরচর্চার একটি বিশেষ ভিডিও প্রকাশ করে সামান্থা ক্যাপশনে লেখেন, "শেষ ট্রাইমেস্টার, চলো দারুণভাবে শেষ করি, বেবি।"
নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও ফিটনেস ভাবনা তুলে ধরে এই তারকা জানান, সন্তান জন্মদানের একদম শেষ সময় পর্যন্ত তিনি স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে চান। শরীরে প্রতিনিয়ত যে নতুন পরিবর্তন আসছে, সেটির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজের পছন্দের কাজগুলো করতে পারায় সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
গর্ভাবস্থায় শরীরচর্চার বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সামান্থা বলেন, "এখন আর আগের মতো নিজেকে অতিরিক্ত চাপ দিই না। বরং শরীর কী চাইছে বা শরীর কতটা নিতে পারছে—সেটির ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছি। কতটুকু ব্যায়াম করতে হবে আর কখন থামতে হবে, তা বুঝে কাজ করার চেষ্টা করছি।" এ কারণে সপ্তাহের ছয় দিন ব্যায়াম করলেও প্রতিদিন সমান মাত্রার কসরত করেন না তিনি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো জটিলতাহীন গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি গর্ভবতী নারীর পেশির শক্তি ও রক্ত সঞ্চালন সচল রাখতে সাহায্য করে এবং গর্ভাবস্থাকালীন নানা শারীরিক অস্বস্তি দূর করে। এই সময় সর্বোচ্চ ফিটনেস প্রমাণের চেয়ে পেশি সচল রাখা ও মানসিক স্বস্তিতে থাকাটাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
তবে নিজের এই রুটিনকে অন্যদের জন্য অন্ধভাবে অনুসরণের মডেল হিসেবে দাঁড় করাতে চান না সামান্থা। তিনি পরিষ্কার করে জানান, পেশাদার ‘প্রি-ন্যাটাল’ প্রশিক্ষকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নিজের শরীরের চাহিদা ও অবস্থা বুঝে তিনি এই রুটিন সাজিয়েছেন। গর্ভাবস্থায় যেকোনো ব্যায়ামের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রত্যেক নারীর নিজ নিজ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
ই-মেইল: kolom24news@gmail.com