৫ অক্টোবর ২০২৬
preview
‘প্রতিবন্ধী বাচ্চাকে দেখার কেউ নেই, মব করে তুলে এনেছে’

মো. নূর নবী শেখ

‘আমার একটা প্রতিবন্ধী বাচ্চা আছে। তাকে সারা রাত জেগে ওষুধ খাওয়াতে হয়। মা-বাবা ছাড়া বাচ্চাটাকে দেখার আর কেউ নেই। আমাকে বাসা থেকে মব তৈরি করে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে!’—আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে এভাবেই আর্তনাদ করছিলেন কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শারমিন সুলতানা শর্মী (সর্মি)।

গতকাল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শুনানিশেষে আদালতের নির্দেশে কারাগারে নেওয়ার পথে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে তিনি তাঁর অসুস্থ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের দেখভাল নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

রাজধানীর একটি বাসা থেকে আটকের পর নির্দিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী মানবিক দিক তুলে ধরে আদালতে জানান, শারমিন সুলতানা শর্মীর একটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) সন্তান রয়েছে, যাকে সার্বক্ষণিক মা-বাবার নিবিড় পরিচর্যা ও নিয়মিত ওষুধ দিতে হয়। মা-বাবা দুজনই অনুপস্থিত থাকলে শিশুটির জীবন সংকটাপন্ন হতে পারে এ যুক্তিতে জামিনের আবেদন করা হয়।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে,শারমিন সুলতানা শর্মীর এই অভিযোগ এবং আদালত চত্বরের আকুতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নাগরিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে:

শর্মীর অভিযোগ, কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া পুরোপুরি মেনে নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে বাসা ঘিরে একদল লোক দলবদ্ধ চাপ ও বিশৃঙ্খলা (‘মব’) তৈরি করে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। সচেতন নাগরিক ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা কেবল নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রচলিত আইনি পথেই সম্পন্ন হওয়া উচিত; দলবদ্ধ বলপ্রয়োগ বা ‘মব জাস্টিস’ আইনের শাসনের পরিপন্থী।

রাজনৈতিক বা ফৌজদারি দায় যা-ই থাকুক না কেন, আটক বা গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল গুরুতর অসুস্থ শিশু বা অক্ষম পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষায় মানবিক বিবেচনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি তুলছেন অধিকারকর্মীরা।


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

ই-মেইল: kolom24news@gmail.com