মো. নূর নবী শেখ
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর (জেআই) আমির হাফিজ নাঈম। পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে হওয়া এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানসহ অন্যান্য মুসলিম দেশকেও যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি জোটটির প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের ওপর জোর দিয়েছেন নাঈম।
সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলছে, ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রোববার (৪ অক্টোবর) জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত সমাবেশে হাজারো মানুষের সামনে বক্তব্য দেয়ার সময় জামায়াতের আমির হাফিজ নাঈম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরান, বাংলাদেশসহ অন্যান্য মুসলিম দেশকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তার মতে, এ জোটের লক্ষ্য যদি সমগ্র অঞ্চলকে নিরাপত্তা দেয়া হয়, তাহলে এর প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ফিলিস্তিন। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত ফিলিস্তিনিদের ওপর, বিশেষ করে গাজায় বসবাসকারী মানুষের ওপর ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ করা।
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে পাকিস্তান জামায়াতের আমির হাফিজ নাঈম বলেন, এতে অন্যান্য মুসলিম দেশকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক এই চুক্তিতে সই করে। এটি ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ নামেও পরিচিত।
তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতির আওতায় সম্মত শর্তগুলোও ইসরায়েল মানেনি। পাশাপাশি দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাচ্ছে। ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের জনগণের সমর্থনে মুসলিম উম্মাহকে সাম্প্রদায়িক, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক বিভেদ কাটিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
হাফিজ নাঈম বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক ও ভৌগোলিক বিভাজনে বিভক্ত না হয়ে মুসলিম উম্মাহকে ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের নিপীড়িত মানুষের সমর্থনে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’। অভিন্ন সংগ্রামের স্বার্থে শিয়া-সুন্নি বিভেদও পাশে সরিয়ে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
নাঈম জানান, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ গাজা ও ফিলিস্তিনের জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের সপ্তাহ হিসেবে পালন করা হবে। পাশাপাশি পেট্রোলিয়াম লেভি, কর ও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৭ অক্টোবরের পর জামায়াতে ইসলামী তাদের পরবর্তী কৌশল ঘোষণা করবে বলেও জানান তিনি।
পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর এই আমির বলেন, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে এবং অঞ্চলটির বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের, এমনকি শিশুদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ইসরায়েলের সামরিক শক্তিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল। এরপর ইসরায়েল যে সামরিক অভিযান চালিয়েছে, তাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে দেশটির নীতিগুলোও উন্মোচিত হয়েছে।
হামাসের সংগ্রামকে বৈধ প্রতিরোধ হিসেবে উল্লেখ করে নাঈম বলেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আল-আকসা মসজিদের স্বাধীনতার জন্যও আরও জোরালো প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান তিনি।
হাফিজ নাঈম বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ প্রমাণ করেছে যে দৃঢ় সংকল্প ও সাহস থাকলে প্রযুক্তিগতভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী বাহিনীকেও চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব। ফিলিস্তিনে আরও রক্তপাত ঠেকাতে মুসলিম সরকার ও সেনাবাহিনীগুলোর দায়িত্ব রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, গাজার পরিস্থিতি ইসলামী আন্দোলনগুলোর মধ্যে আরও বেশি ঐক্যের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেছে। তিন বছর ধরে যুদ্ধ চললেও ফিলিস্তিনিরা হামাসের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর এই প্রধান নেতা জানান, সাধারণ মানুষের সহায়তায় জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের দাতব্য সংস্থা আলখিদমত ফিলিস্তিনিদের জন্য ১০০০ কোটি পাকিস্তানি রুপির ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
ই-মেইল: kolom24news@gmail.com