১৭ অক্টোবর ২০২৬
preview
চাঁদাবাজি হলে রাজপথে নামব: রুমিন ফারহানা

মো. নূর নবী শেখ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, আমার এলাকায় চান্দাবাজি হইলে আমি কাউকে চিনি না। আমি তার বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়াব।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের জয়দরকান্দি গ্রামের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, বাংলাদেশের এখন এই অবস্থা হইছে যে গরু-মহিষরে ঘাস খাওয়াইতে হইলেও চান্দা দিয়া খাওয়াইতে হয়। চান্দা না দিলে খামারের মাছের খাবারে বিষ মেশানো হয়।’

নিজ এলাকায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমার এলাকায় চান্দাবাজি হইলে আমি কাউকে চিনি না। আমি তার বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়াব। ডান পাশে বালুচোর আর বাম পাশে মামলাবাজ নিয়ে আমি রাজনীতি করতে চাই না।’

নিজের আত্মীয়স্বজনকে সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কোনো আগ্রহ নেই উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার কোনো আত্মীয় নাই, যাকে সারের ডিলারশিপ দিতে হবে। যাকে রাস্তার কাজের ঠিকাদারি দিতে হবে। যাকে চান্দা দিয়া আপনাদের ব্যবসা করতে হবে।’

নিজের দলের কোনো নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, অভিযোগকারীর নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আমার কোনো কর্মীর বিষয়ে যে কোনো অভিযোগ থাকলে নাম-পরিচয় গোপন রেখে লিখিতভাবে আমাকে জানাবেন। আপনাদের পরিচয় আমি প্রকাশ করব না। কিন্তু সেই কর্মীর ব্যাপারে যে ব্যবস্থার নেওয়ার, আমি সে ব্যবস্থা নেব। আমার কোনো কর্মী যদি আমার কোনো ভোটারের সঙ্গে একটুও বেয়াদবি করে, আমার ওই কর্মীর নাম আমার কাছে জমা দেবেন, বাকি ব্যবস্থাটা আমি করব।’

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামের পর তারা এমন একটি সরকার প্রত্যাশা করেছিলেন, যারা বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যার সমাধান করবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে এবং নিত্যপণ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে রাখবে।

তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন দুর্ভাগ্য, ৮০-৯০ টাকা কেজির নিচে সবজি নাই। ঢাকা শহরে একটা ডিমের দাম ১৫ টাকা। গরিব খাবে কী?’

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য, এমন সরকার আমরা পেলাম, যাদের নামই হয়ে গেল ‘টুকু (বিদ্যুৎ) নাই, টুকু নাই’। এত বলি, টুকু কই? টুকু তো আর আসে না। আজকে মিটিংয়ে আইসাও টের পাইলেন, টুকু মাঝে মধ্যে টুক করে আসে বটে, কিন্তু টুকু আমাদের ঘরে থাকে না।’

গ্যাস সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাসাবাড়ির লাইনে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, এক হাজার ৮০০ টাকার সিলিন্ডারের দাম বেড়ে এখন দুই হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৭০০ টাকায় পৌঁছেছে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ছয় মাসের মধ্যে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও সেই পরিকল্পনার প্রভাবে ঢাকার হকার ও অটোরিকশাচালকদের বাড়িতে বসে থাকতে হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘ওই পরিকল্পনার ধাক্কায় গাজীপুর, আশুলিয়া ও সাভারে কয়টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, খবর নেন। ওই পরিকল্পনার ধাক্কায় আমার কত শ্রমিক ভাই চাকরি হারিয়েছেন, একটু খবর নেন।’

মতবিনিময় সভায় পাকশিমুল ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

ই-মেইল: kolom24news@gmail.com