মো. নূর নবী শেখ
আবহাওয়ার পরিবর্তন, ঠান্ডা বাতাস কিংবা শুষ্ক পরিবেশে ঠোঁটের আর্দ্রতা কমে যায়। শুষ্ক ও খসখসে ঠোঁট অনেকের অস্বস্তির কারণ হতে পারে। বাজারে ঠোঁটের যত্নে নানা ধরনের লিপ বাম পাওয়া গেলেও চাইলে ঘরেই তৈরি করতে পারেন সহজ একটি লিপ বাম। এই বাম ঠোঁট নরম রাখতে ও আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
ঘরে যেভাবে তৈরি করবেন লিপ বাম
উপকরণ
- ১ চা-চামচ বাদাম তেল
- ১ চা-চামচ নারিকেল তেল
- ১ চা-চামচ মৌমাছির মোমের দানা
- সংরক্ষণের জন্য পরিষ্কার ও শুকনো ছোট পাত্র
প্রস্তুত প্রণালি
প্রথমে একটি তাপসহনশীল বাটিতে মৌমাছির মোম, নারিকেল তেল ও বাদাম তেল নিন। এরপর বাটিটি ফুটন্ত পানির ওপর বসিয়ে হালকা তাপে উপকরণগুলো গলিয়ে নিন। এ সময় ধীরে ধীরে নেড়ে মিশ্রণটি ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। সরাসরি আগুনে অতিরিক্ত তাপ দেওয়া এড়িয়ে চলুন।
সব উপকরণ গলে একসঙ্গে মিশে গেলে সাবধানে পরিষ্কার ও শুকনো ছোট পাত্রে ঢেলে দিন। মিশ্রণটি ঠান্ডা হয়ে শক্ত হওয়া পর্যন্ত পাত্রটি স্থির রাখুন। পুরোপুরি ঠান্ডা হলে ঢাকনা বন্ধ করে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায় সংরক্ষণ করুন।
বামটি বেশি শক্ত হলে পরেরবার মোমের পরিমাণ কিছুটা কমানো যেতে পারে। আবার বেশি নরম হলে মোমের পরিমাণ সামান্য বাড়িয়ে নিতে পারেন।
তবে, প্রাকৃতিক উপাদান সবার জন্য নিরাপদ নয়। তাই ঘরে তৈরি লিপ বাম ব্যবহারের আগে উপাদান সম্পর্কে জানা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।
বাদাম ও নারিকেলের লিপ বামের উপকারিতা
নারিকেল তেল শুষ্ক ত্বক নরম করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, বাদাম তেল ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। মৌমাছির মোম ঠোঁটের ওপর একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা আর্দ্রতা হারানোর ঝুঁকি কমাতে পারে।
ঠান্ডা আবহাওয়া, বাতাস ও ঘরের শুষ্ক পরিবেশে ঠোঁট ফেটে যেতে পারে। নিয়মিত লিপ বাম ব্যবহার করলে ঠোঁটের শুষ্কতা কমার পাশাপাশি রুক্ষ ত্বক নরম থাকবে।
ঠোঁট শুষ্ক হয়ে গেলে, তা খসখসে দেখায় এবং অস্বস্তি তৈরি করে। ঠোঁটে আর্দ্রতা বজায় থাকলে তা তুলনামূলক নরম ও মসৃণ অনুভূত হয়। তবে, এই লিপ বাম ঠোঁটের স্বাভাবিক রং স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করতে বা কালচে দাগ দূর করতে পারে না।
ঘরে লিপ বাম তৈরি করলে এর উপাদান নিজের পছন্দ অনুযায়ী বেছে নেওয়া যায়। সুগন্ধি বা কৃত্রিম ফ্লেভার এড়িয়ে সাধারণ উপাদান ব্যবহার করা সম্ভব।
কতবার ব্যবহার করবেন?
ঠোঁট শুষ্ক মনে হলে অল্প পরিমাণে লিপ বাম লাগাতে পারেন। বিশেষ করে মুখ ধোয়ার পর ও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্যবহার করা যেতে পারে। বাইরে যাওয়ার আগেও লাগানো যায়। তবে, রোদে ঠোঁটের সুরক্ষার জন্য এসপিএফযুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করা বেশি উপযোগী
ঠোঁট বারবার চাটা বা কামড়ানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। লালার সংস্পর্শে ঠোঁট আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। একইভাবে ঠোঁটের উঠে আসা চামড়া জোর করে টেনে তোলা বা ঘষাঘষি করা থেকেও বিরত থাকুন।
ব্যবহারের আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
বাদামে অ্যালার্জি থাকলে বাদাম তেলযুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করবেন না। বাম লাগানোর পর চুলকানি, লালচে ভাব, ফোলাভাব বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন। প্রথমবার ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট জায়গায় অল্প পরিমাণ লাগিয়ে পরীক্ষা করতে পারেন। তবে, এ পরীক্ষা অ্যালার্জির ঝুঁকি পুরোপুরি বাদ দিতে পারে না।
ত্বকে ব্যবহারের উপযোগী মিষ্টি বাদাম তেল ব্যবহার করুন। তেতো বাদাম তেল বা প্রসাধনী ব্যবহারের জন্য তৈরি নয়- এমন তেল এড়িয়ে চলুন। লিপ বাম তৈরির সময় পানি মেশাবেন না এবং পরিষ্কার পাত্র ব্যবহার করবেন। বামে ভেজা বা অপরিষ্কার আঙুল দেওয়াও এড়িয়ে চলুন।
ঘরে তৈরি এই বামে পরীক্ষিত সংরক্ষণব্যবস্থা না থাকায় অল্প পরিমাণে তৈরি করাই ভালো। গন্ধ, রং বা গঠনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে ফেলে দিন। দীর্ঘদিন ঠোঁট ফাটা, ব্যথা বা প্রদাহ থাকলে শুধু লিপ বামের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
ই-মেইল: kolom24news@gmail.com