মো. নূর নবী শেখ
ইসরায়েলের নির্বাচনে এখনো স্পষ্ট বিজয়ী নির্ধারিত হয়নি। প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ও বিরোধী জোট—কোনোটিই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পেতে যাচ্ছে না। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি বুধবার জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ৯টা পর্যন্ত ৫০ লাখের বেশি ভোট গণনা করা হয়েছে।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা হতে পারে ৪৮।
নির্বাচনের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আরব দলগুলো (জয়েন্ট লিস্ট ও রা'আম) সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যার মধ্যে চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হতে পারে। তবে পাঁচ লাখের বেশি বিশেষ দুই-খামের ব্যালটের গণনা তখনো বাকি রয়েছে। এসব ব্যালটের মধ্যে সেনাসদস্য, কূটনীতিক এবং নিজ নিজ নিবন্ধিত ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের ভোট রয়েছে। এসব ভোটে আসন বণ্টনের হিসাব বদলে যেতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ও গাজা যুদ্ধের পর এটিই ছিল প্রথম নির্বাচন। ভোটটি নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রিত্বের ওপর একধরনের গণভোট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও ৭৭ বছর বয়সী এই নেতার ক্ষমতায় থাকার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ আগামী সপ্তাহে দলীয় নেতাদের সঙ্গে সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু করবেন। সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়ে নতুন নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
হারজোগ সব দলকে আরেকটি নির্বাচন এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরায়েলে জোট সরকার গঠনই প্রচলিত ব্যবস্থা; দেশটির ইতিহাসে কোনো দল এককভাবে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। নেতানিয়াহুর জোট সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।
তিনি বিরোধী শিবিরের অংশবিশেষকে নিয়ে ঐক্য সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আইজেনকোটের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এমন সরকার গঠনের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইজেনকোট বলেন, তার জোটের মনোযোগ এখন জনগণের অর্পিত দায়িত্ব পালনের দিকে। তিনি ইসরায়েলে পরিবর্তন আনা এবং একটি ‘জায়নবাদী ঐক্য সরকার’ প্রতিষ্ঠার কথা বলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভোটাররা ৭ অক্টোবরের হামলার সময় সরকারের ব্যর্থতা এবং সামগ্রিকভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়েছেন।
এদিকে আরব ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির মধ্যে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে চুরির অভিযোগ তুলেছে। এক বিবৃতিতে দলটি দাবি করেছে, সন্ত্রাসবাদ ও ইসরায়েল রাষ্ট্রের বিলুপ্তিকে সমর্থনকারী আরব দলগুলো ঘুষ, হুমকি, সহিংসতা, জালিয়াতি এবং ভোটার সংগঠিত করতে নিষিদ্ধ সফটওয়্যার ব্যবহারের মতো অপরাধ করেছে।
লিকুদ পার্টি আরও জানিয়েছে, আরব অধ্যুষিত বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে শত শত সাক্ষ্য ও প্রমাণ পুলিশ, শিন বেত এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছে জমা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
ই-মেইল: kolom24news@gmail.com