_copy7.webp)

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পর্যটন এলাকা থামেল থেকে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড ও ভিসা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও অনুসন্ধানের জন্য নেপালের অভিবাসন দফতরে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থামেল এলাকার একাধিক হোটেল থেকে তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম।
পুলিশের উপত্যকা অপরাধ তদন্ত কার্যালয়ের বরাত দিয়ে নেপালি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে থামেল ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হোটেলগুলোতে এই অভিযান চালানো হয়। অভিবাসন বিভাগ ইতোমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযানের স্থান ও গ্রেফতারকৃতদের বিষয়ে পুলিশের উপত্যকা অপরাধ তদন্ত কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) শরদ কুমার থাপা ছেত্রী জানান, থামেল এলাকায় বেশ কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের বিশৃঙ্খলা ও সন্দেহজনক তৎপরতার খবর পেয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, থামেল এলাকার ‘হোটেল ঢাকা এক্সপ্রেস’, ‘হোটেল দি ভেদা’ এবং ‘হোটেল আল-রহমান’ নামের তিনটি বাণিজ্যিক আবাসিক হোটেল থেকে এই ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন— ফাহিমা আক্তার হাসান (৪৬), মাহমুদ (৪৮), মাহবুব হাসান (৪৫), রিপন মাহমুদ (৪৯), মো. কারামত আলী খান (৩০), সাইদুর রহমান (৩০), মো. খলিলুর রহমান (৫০), আরিফুর রহমান (২৮), মো. মারুফ মৃধা (৪২), মোহাম্মদ হানিফ মিয়া (৬৪)।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযানের সময় এই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ‘খাতুনে জান্নাত’ নামের এক নারী পালিয়ে যান। তাকে গ্রেফতারে পুলিশি অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের বিষয়ে নেপাল অভিবাসন দফতরের পরিচালক তিকারাম ঢাকাল জানান, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আটককৃতদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত একজন নিজ ভিসার মেয়াদের চেয়ে অতিরিক্ত সময় ধরে (ওভার স্টে) অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন। অন্য আসামিরা কী উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন এবং কী কাজে জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আটক ব্যক্তিরা থামেলের ‘মুসলিমা টোল’ এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময় স্থানীয়দের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়তেন। পাশাপাশি তারা যে ভিসায় নেপালে প্রবেশ করেছিলেন, তার শর্ত লঙ্ঘন করে অর্থ উপার্জনমূলক এবং অন্যান্য অননুমোদিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন বলে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
কাঠমান্ডুকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশিদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা করার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও নেপাল পুলিশ একাধিক চক্রকে গ্রেফতার করেছে, যারা ইউরোপ বা উন্নত দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি তরুণদের কাঠমান্ডুতে এনে জিম্মি করত এবং মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত।
পুলিশের তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া এই ১০ জনও একই ধরনের কোনো মানব পাচার, চাকরির ভুয়া প্রলোভন বা অবৈধ অর্থ লেনদেনকারী সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত কি না।
নেপালের অভিবাসন দফতরের তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জরিমানা, কারাদণ্ড বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) মতো আইনানুগ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সূত্র: নেপাল নিউজ
প্রবাস নিয়ে আরও পড়ুন





সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।