_copy7.webp)

সেপ্টেম্বর শেষ হতে চলল। তবুও ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টিপাত কমার নাম নেই। বিশেষত দেশের উত্তর এবং পূর্ব অংশে। সমতলে গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও নেপাল ও ভুটান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি নদীগুলি বন্যার আশঙ্কা আরো তীব্র করেছে। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ, বিহার ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে। অন্যদিকে সিকিম ও দার্জিলিং এর মত এলাকাগুলো একটানা বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের কবলে পড়েছে।
গত দু'দিনে উত্তরপ্রদেশের ৭৫টি জেলার ৬৩টিতেই স্বাভাবিকের তুলনায় ভারী বা অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে। এই দু'দিনের মধ্যে বন্যা এবং অতিবৃষ্টি সংক্রান্ত কারণে ওই রাজ্যে অন্তত ১৭জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে অযোধ্যায় মৃত্যু হয়েছে দু'জনের। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অমেঠী, বস্তী, ফতেপুরসহ কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির দাপট বেড়েছে।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বিভিন্ন নদী উপচে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ওড়িশায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগে নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার প্রায় ৭০ হাজার বাসিন্দাকে শনিবার ত্রাণ শিবিরে নিয়ে গেছে প্রশাসন। এখনো পর্যন্ত ৩৯৫টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। বন্যা কবলিত বালাসোর, ময়ূরভঞ্জ, কোরাপুট, কেওনঝড়, জগতসিংহপুর, জয়পুরের মতো জেলাগুলোর পরিস্থিতি আজ, রবিবার খতিয়ে দেখার কথা সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝির। উপকূলীয় জেলা বালাসোরে তিনটি নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। ভারী বৃষ্টিপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক সেতু, কজওয়ে।
একদিকে ভারী বৃষ্টি অন্যদিকে নেপাল থেকে নেমে এসো নারায়ণী নদীর পানি বিপদ বাড়াচ্ছে গঙ্গাতেও। বিহারের ছয়টি জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া ও মালদা জেলা আবারো বন্যার আশঙ্কায় ভুগছে। ইতিমধ্যেই পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের শান্তিপুরে শনিবার থেকে বেশ কিছু এলাকা নতুন করে জলমগ্ন হয়েছে। বিহারে নেপাল এবং সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে গণ্ডক, কোসি ও অন্যান্য নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে দেবভূমি উত্তরাখন্ডে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদীগুলির পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় চারধাম যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে এবং পাঁচটি জেলায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ছত্রিশগড়ে ক্রমাগত ভারী বর্ষণের কারণে বাস্তার, দন্তেওয়াড়া, কঙ্কের, কোণ্ডাগাঁও সহ ৮টি জেলায় নদীর পানি বেড়ে গ্রাম ও নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
পশ্চিম সিকিমের রিম্বি গ্রামে আকস্মিক বন্যা ও বারবার ধসের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৩২টি বাড়ি, চারটি সরকারি দপ্তরসহ বিভিন্ন পরিকাঠামো। পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ায় গ্রামটিকে বসবাসের অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। সিঙ্গলিতামের খাড়া ঢাল ধসতে শুরু করায় বিপদ ঘনাচ্ছে সেই অগস্ট মাস থেকে। শুধু ওই মাসেই প্রবল বৃষ্টিপাত ও ধসে প্রায় ৩০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইতিমধ্যে নিরাপদে স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গ্রামবাসীকে।
বিশ্ব নিয়ে আরও পড়ুন




.webp&w=2048&q=75)
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।