_copy7.webp)

পিরোজপুরে জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অন্যতম সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর লাশ ১৫ ঘণ্টা পর পুলিশ প্রহরায় দাফন করা হয়েছে।
শনিবার রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর (৮৭) লাশ দাফন করা হয় বলে জানিয়েছেন পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো শরিফুল ইসলাম।
এর আগে এ বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহে গার্ড অফ অনার দিতে এবং পিরোজপুরে কবর দিতে বাধা প্রদান করে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।
পরে পিরোজপুর জেলা পুলিশের সহায়তায় লাশ সরিয়ে নেয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অফ অনার শেষে নিরাপত্তায় লাশ ঘিরে রাখা হয়।
রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশের সহায়তায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর লাশ চিতলিয়া গ্রামের বাড়ি নিয়ে যায় স্বজনরা।
সেখানে রাত ২টার দিকে তার দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ। এ সময় মানিক পশারীর স্ত্রী-সন্তান উপস্থিত ছিলেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বোন মোছাম্মৎ রিনা আক্তার বলেন, “আমার ভাই মারা গেছেন। প্রথমে আমরা তাকে দাফনের জন্য পিরোজপুরে নিয়ে আসি। তখন দাফন করতে না পারায় আমরা বিপাকে পড়ি।”
এর আগে শনিবার দুপুর ১২টার পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ আসলে জেলা জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়ে তার স্বজনরা।
মানিক পশারীর মেয়ে জামাই ফারুক হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে মানিক পশারী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকায় তার (মেয়ে জামাই)কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দুই মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগে শনিবার সকাল ১০টায় মৃত্যুবরণ করেন।
“পরে দুপুর ১২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে তাকে গার্ড অফ অনারের জন্য আনা হলে বাঁধা প্রদান করা হয়। তিনি একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা। পরে পুলিশ তাকে গোপনে পুলিশ লাইনসের ভিতরে গোপনে গার্ড অব অনার দিয়ে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।”
তখন পিরোজপুর জেলা জামাতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন, “মানিক পশারী একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তাকে কোনোভাবেই গার্ড অনার দিতে দেয়া হবে না। পিরোজপুরের মাটিতে মানিক পশরীর লাশ দাফন দিতে দেয়া হবে না।”
এ সময় শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের অবস্থান করতেও দেখা গেছে।
তবে লাশ দাফনের পর রাজ্জাক বলেন, “মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ সংগঠনের কোন নেতৃবৃন্দ কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করেনি।
“জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী নিজের ফেইসবুকে এক পোস্টে বলেন, “মানিক পশারীর জানাজা বা দাফন নিয়ে আমাদের কোন বক্তব্য বা বাধা ছিল না, নেইও। আপত্তি ছিল একজন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাকে 'গার্ড অব অনার' প্রদান নিয়ে। যদিও প্রশাসন মিথ্যাচার ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রাপ্ত একজন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গোপনে গার্ড অব অনার প্রদান করেছে।”
পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। পরবর্তীতে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য কবরের পাশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
দেশজুড়ে নিয়ে আরও পড়ুন








.webp&w=2048&q=75)
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি
স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।