home icon
Login

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store


বিদেশে কিছু পেলে ১০ শতাংশ দিয়েন: আসিফ মাহমুদ

মো. নূর নবী শেখ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাকলম২৪.কম

আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৩

Facebook
Twitter

বিদেশে কিছু পেলে ১০ শতাংশ দিয়েন: আসিফ মাহমুদ

উপদেষ্টা থাকাকালীন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন গ্রহণ ও বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে দুদকের এমন সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন এনসিপির এ নেতা।

নিজের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’

এর আগে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার আমলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা থাকাকালীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন গ্রহণ, ডিসি পদায়নে অর্থ লেনদেন এবং বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে।

পর্তুগাল-সুইজারল্যান্ডসহ ৫ দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু
এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রোববার নিশ্চিত করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ।

দুদকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।


এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হয়। একইভাবে ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতেও কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ এবং ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে আসিফ মাহমুদের রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, তিনি হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করেছেন। পাশাপাশি রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনসহ বিভিন্ন পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস এবং গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে।

দুদকে দেওয়া আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা করেছেন আসিফ মাহমুদ।

অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করে সেখানে বিলাসবহুল ভিলা কেনা ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। তার দুই বোনজামাই ও ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগও আনা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টিও অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। ওই প্রকল্পের বরাদ্দ ও গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন এবং এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও ঘুষ লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এ কারণে অভিযোগটি দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদে যোগ দেন আসিফ মাহমুদ।

শুরুতে তিনি যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন। বর্তমানে তিনি দলটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।



অনুসরণ করুন

logologologologologo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।