home icon
Login

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store


‘সমু চৌধুরী বাই পোলার পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত’

শোবিজ প্রতিবেদক, ঢাকা
শোবিজ প্রতিবেদক, ঢাকাকলম২৪.কম

আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৩০

Facebook
Twitter

‘সমু চৌধুরী বাই পোলার পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত’

এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা সমু চৌধুরীর অপ্রকৃতিস্থ জীবনযাপনের চিত্র এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। প্রিয় তারকার এমন দুর্দশা দেখে ব্যথিত তার ভক্ত-অনুরাগীরা। অনেকে তাকে ‘নেশাগ্রস্ত’, ‘পাগল’ বলে মন্তব্য করছেন। কিন্তু অভিনেত্রী মনিরা মিঠুর দাবি—সমু চৌধুরী বাই পোলার পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সমু চৌধুরীর একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে দীর্ঘ একটি পোস্ট দিয়েছেন মনিরা মিঠু। এ লেখায় বিস্তারিত বর্ণনা করার চেষ্টা করেছেন তিনি। এই অভিনেত্রী বলেন, “আহারে শিল্পী, কত একা আপনি। অভিনেতা সমু চৌধুরী লোকজনের কাছে আজ পাগল, নেশাখোর। এই গুণী মানুষটি আসলে ‘বাই পোলার পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার’-এর পেশেন্ট। এই অসুখে যে উনি আক্রান্ত এই বিষয়ে একদম পরিষ্কার ধারণা আমার আছে।”

সমু চৌধুরীর পরিবারের ভয়াবহ দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে মনিরা মিঠু বলেন, “সমু চৌধুরীর আপন ভাই-বোনসহ সম্ভবত ৫ কি ৬ জন পরিবারের সদস্য সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়। বেঁচে আছেন শুধু বৃদ্ধা মা। দুর্ঘটনার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সমু চৌধুরী ছিলেন একজন চলমান অভিনেতা, একজন নায়ক। কিন্তু সেই রক্তাক্ত এক্সিডেন্টের পর থেকে তিনি উধাও হয়ে যান।”

বাষট্টি বছর বয়েসি সমু চৌধুরী ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত। সংসারী না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মনিরা মিঠু বলেন, “বেশ খানিক বছর পর অভিনয় জগতে ফিরে আসেন সমু ভাই। বিয়ে থা করেন নাই। বিয়ে না করার কারণ ছিল উনার বৃদ্ধা মা। সমু ভাইয়ের চিন্তা-চেতনায় ভর করে—‘আমি যদি বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে ব্যস্ত থাকি, আমার মা নিঃসঙ্গ হয়ে যাবেন।’ উনি একাকীত্বকেই বেছে নিলেন। না হলো উনার সংসার, না হলো উনার সন্তান।”

সমু চৌধুরীর সঙ্গে অনেক নাটকে অভিনয় করেছেন মনিরা মিঠু। দুই বছর আগে তার অসুস্থতার ব্যাপারটি বুঝতে পারেন তিনি। তা স্মরণ করে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমার দেখা একমাত্র সাধু-সন্যাসী সমু ভাই। দেখতাম অভিযোগবিহীন নির্ভেজাল ভালো মানুষ সমু ভাই। আমি নিয়মিত উনার সাথে কাজ করতাম, উনার দর্শনতত্ত্ব, উনার কবিতা পাঠ শুনতাম। জ্ঞানের পরিধি উপলব্ধি করে বিস্ময় প্রকাশ করতাম। কিন্তু দুই বছর আগেই আমি স্পষ্ট লক্ষ্য করলাম যে, সমু চৌধুরীকে দানবের মতো আক্রমণ করছে সেই ঘাতক রোগটি। উনি সেটে এসে অনর্গল কথা বলতেন, নাচতেন, উচ্চস্বরে বিখ্যাত সব মঞ্চ নাটকের সংলাপ বলতেন। আড়ালে সবাই বলতে থাকলেন ‘সিদ্ধি না কি খাওয়া বাড়িয়ে দিয়েছেন।’ কিন্তু আমি বুঝতাম ‘উনি পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত হচ্ছেন’।”

পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার রোগের সঙ্গে পরিচিত মনিরা মিঠু। পরিবারের সদস্যদের উদাহরণ টেনে এই অভিনেত্রী বলেন, “এই তিলে তিলে শেষ করে দেয়া নীরব ঘাতক রোগের সাথে বহুকালের পরিচয় আমার। আপন চাচি, আমার মেঝো ভাই এই রোগে আক্রান্ত ছিলেন। চাচি আম্মা এবং আমার মেঝো ভাই আমাকেই কেন এত পছন্দ করতেন? একমাত্র আমিই কেন শৈশব এবং কৈশোরে তাহাদের পরম বন্ধু ছিলাম? উত্তর খুব সহজ। কিন্তু উত্তরটি হাজার হাজার মাইলের সমান দীর্ঘ। যখন একজন মানুষ অতি ভয়ংকর, যা কিনা সহ্য করার মতো নয়, এমন পরিস্থিতি অথবা দুর্ঘটনার শিকার হন, তখন কেউ কেউ এই রোগটি বহন করতে থাকেন। সেটা হতে পারে শৈশবে অথবা কৈশোরে অথবা যৌবনে।”

মারাত্বক ট্রমায় আক্রান্ত ব্যক্তিটির মাথায় এই রোগটি বীজ পুঁতে রাখে। অসুখটি কোনো কোনো মানুষকে আক্রান্ত করে অনেক দ্রুত, যদি সেই ব্যক্তির নার্ভ খুব শক্তিশালী হয়, তখন রোগটি যুদ্ধ করে শক্ত নার্ভের কাছে হেরে যায়। তবে বয়স যত বাড়ে, ততই এই রোগ আঘাত হানে বলেও জানান মনিরা মিঠু।

সকলের কাছে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে মনিরা মিঠু বলেন, “একজন সমু চৌধুরী কারোর যত্নে নাই, কারো মায়ায় নাই, এমন একটা আপন মানুষ নাই, যার কথায় উনি ডক্টরের কাছে যাবেন, কাউন্সেলিং করাবেন, প্রয়োজনে মেডিসিন খাবেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়ে নিবিড় পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণে থাকবেন। কেউ কি নাই? এই সাধুকে অমানুষদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য?”

ছাত্রজীবনে যশোর উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সমু চৌধুরী। টানা ১০ বছর উদীচীর হয়ে পথনাটক, মঞ্চনাটক ও গণসংগীত করেছেন। পরে ঢাকা উদীচী, ঢাকা থিয়েটার, নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৯০ সালে আতিকুল হক চৌধুরীর ‘সমৃদ্ধ অসীম’ নাটকের মধ্য দিয়ে টিভি নাটকে যাত্রা শুরু করেন। এরপর ‘জন্মভূমি’, ‘সাতপৌরে কাব্য’, ‘এই সময়ের গল্প’, ‘জিনের বাদশা’, ‘সোনালী রোদ্দুর’, ‘এবং আমি’, ‘সবুজের হলুদ ব্যাধি’, ‘দূরের আকাশ’ প্রভৃতি নাটকে অভিনয় করে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেন।

বেশ কিছু চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন সমু চৌধুরী। এ তালিকায় রয়েছে—‘আদরের সন্তান’, ‘নদীর নাম মধুমতী’, ‘দোলন চাঁপা’, ‘শত জনমের প্রেম’, ‘মায়েল অধিকার’, ‘দেশ দরদি’, ‘মরণ নিয়ে খেলা’, ‘প্রেমের নাম বেদনা’, ‘যাবি কই’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘জুম্মন কসাই’, ‘হৃদয় থেকে পাওয়া’, ‘গোলুই’ প্রভৃতি।​



অনুসরণ করুন

logologologologologo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।